চলতি বছরের আইএমডি স্মার্ট সিটি ইনডেক্সে আট ধাপ এগিয়েছে দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শহরটি রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এ অর্জনের মাধ্যমে শহরটি শুধু গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চলেই নয়, বরং আরব বিশ্ব ও এশিয়ায় স্মার্ট শহর হিসেবে শীর্ষ অবস্থান নিশ্চিত করেছে। খবর জাওয়া।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমডি ওয়ার্ল্ড কমপিটিটিভনেস সেন্টার ও সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি ফর টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইন যৌথভাবে এ সূচক প্রকাশ করেছে। বিশ্বজুড়ে শহরগুলো কীভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করছে তা পরিমাপ করে আইএমডি ইনডেক্স। ২০২৫ সালের সূচক তৈরির ভিত্তি ছিল শহরগুলোর স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, যোগাযোগ, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও সুশাসন।
এ বছরের তালিকায় সেরা তিনটি শহর হলো জুরিখ (সুইজারল্যান্ড), অসলো (নরওয়ে) ও জেনেভা (সুইজারল্যান্ড)। এর পরই অবস্থান নিয়েছে দুবাই। এ সূচক শুধু অবকাঠামো নয়, নাগরিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করে।
২০২৫ সালের প্রতিবেদনে দুবাই বেশকিছু ক্ষেত্রে ভালো স্কোর পেয়েছে। যেমন ডিজিটালভাবে চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে সন্তুষ্টি স্কোর ১০০-তে ৮৪ দশমিক ৫, ইন্টারনেট গতি নিয়ে আত্মবিশ্বাস ৮৬ দশমিক ৫ ও পরিচয়পত্র অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণে সন্তুষ্টি ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা মানে ১০০-তে ৮২ দশমিক ৮, সবুজ খোলা জায়গায় প্রবেশাধিকার ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ, রিসাইক্লিং সেবায় সন্তুষ্টি ৮৪ দশমিক ৩ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ সন্তুষ্টি দেখা গেছে।
দুবাইয়ের রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির মহাপরিচালক মাত্তার আল তাইয়ার বলেন, ‘এ সাফল্য সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।’
তিনি জানান, স্মার্ট মোবিলিটি খাতে দুবাই বেশ ভালো করেছে। বিশেষ করে রাইডশেয়ারিং অ্যাপের ব্যবহার ৬৭ দশমিক ৯, স্মার্ট পার্কিং অনুসন্ধান ৭৩ দশমিক ৮ শতাংশ ও সাইকেল রেন্টাল অ্যাপ ব্যবহারের হার ৭০ শতাংশ নিশ্চিত করেছে শহরটি। এ তিন ক্ষেত্রেই দুবাই জুরিখ, অসলো ও জেনেভার তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
মাত্তার আল তাইয়ার বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বিগ ডাটা ব্যবহার করে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যানজট হ্রাস পেয়েছে। দুবাই রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (আরটিএ) বর্তমানে ৮২টি প্রকল্পে ১৬০ কোটি দিরহাম বিনিয়োগ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ৫০টি এআই-নির্ভর প্রকল্প।’
স্মার্ট শহর র্যাংকিংয়ে দুবাইয়ের এ উত্থানে ভূমিকা রেখেছে পুলিশ, কমিউনিটি উন্নয়ন ও সংস্কৃতি সংস্থাগুলোও। দুবাই পুলিশের প্রধান আব্দুল্লাহ খলিফা আল মাররি বলেন, ‘এ অগ্রগতি নগর উন্নয়নে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির সমন্বিত প্রয়োগের ফল।’ অন্যদিকে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান হেসা বিনত ঈসা বলেন, ‘জীবনমান উন্নয়নকেই দুবাইয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে।’